মীমাংসিত বিষয় নিয়ে সিলেট বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতির হুমকি অযৌক্তিক: সিলেট এস এম এস নেতৃবৃন্দ
মীমাংসিত বিষয় নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর সিলেট বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভায় কর্মবিরতির হুমকি ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সিলেট এস এম এস মালিক ও শ্রমিক বাস-মিনিবাস শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার’ নেতৃবৃন্দ। তারা এই হুঁশিয়ারিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক দাবি করে আইন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে পরিবহন পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) রাতে কদমতলীস্থ কার্যালয়ে এস এম এস গ্রুপের সভাপতি হাজী শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুল কাইয়ুমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় পরিবহন নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, “আমরা মালিক ও শ্রমিকরা সর্বদাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিয়ম মেনে চলি। কিন্তু যারা আইন অমান্য করে অহেতুক হুমকি-ধমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
তারা আরও বলেন, দুই পরিবহনের মধ্যে ছোটখাটো বিরোধ হতে পারে, কিন্তু শ্রমিক সভাপতি একক কোনো পক্ষের হয়ে কথা বলবেন—তা মেনে নেওয়া যায় না। আন্তঃজেলা রুটের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি রয়েছে। হাইওয়েতে গাড়ি চলাচলে কোনো বাধা না থাকলেও ফাঁড়ি বা আঞ্চলিক রোডে পারমিট ছাড়া গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ অবৈধ। মৌলভীবাজার রুটে তাদের পারমিট নেই। ১১৪টি গাড়ির একটিরও বৈধ পারমিট ছাড়া এবং রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে গায়ের জোরে গাড়ি চালাচ্ছে।
পরিবহন সংকটের সমাধানে প্রশাসনের একাধিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ মহোদয় ও কয়েকজন সংসদ সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। এরপর ২০ অক্টোবর ঢাকায় এবং সর্বশেষ ১১ অক্টোবর সিলেট সার্কিট হাউসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি-র সভাপতিত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় মন্ত্রী স্পষ্ট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান—পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুসারেই গাড়ি চলবে এবং এটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
নিয়ম অনুযায়ী এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাত্রী ওঠানামা করার কথা থাকলেও চণ্ডীপুলে বেআইনিভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে বলে সভায় অভিযোগ করা হয়। মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে সমাধান তদারকির জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল (সিলেটের হাজী শাহাবুদ্দিন, মৌলভীবাজারের আব্দুর রব ও হবিগঞ্জের সোহেল আহমদ)। কোনো সমস্যা হলে আহ্বায়ক ডিডি আব্দুর রশিদকে জানানোর কথা থাকলেও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত তোয়াক্কা না করে মনগড়াভাবে হুমকি প্রদান করছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মইনুল ইসলামের ভূমিকার সমালোচনা করে সভায় বক্তারা বলেন, “আপনি একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হয়ে নির্দিষ্ট একটি পক্ষের হয়ে কথা বলছেন, যা অনুচিত। আপনার একক আধিপত্য বা আচরণে মনে হচ্ছে আপনি প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বে। রাস্তায় গণ্ডগোল হতে পারে, তাই বলে অন্য পক্ষকে সাথে না নিয়ে কর্মবিরতির হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১৮ সালের গেজেট অনুযায়ী এক রোডের গাড়ি অন্য রোডে যেতে অনুমতি লাগে এবং লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি স্টপেজে মাত্র ৫ মিনিট গাড়ি থামার কথা।”
এসএমএস গ্রুপের বাস চলায় সাধারণ যাত্রীসাধারণ আনন্দিত উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ সতর্ক করে দেন, যদি ধর্মঘট বা হুমকির নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়, তবে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে তা রাজপথে মোকাবিলা করা হবে।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান হাজী সৈয়দ মৌরশ আলী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হাজী শামসুদ্দিন বাবুধন, ভাইস চেয়ারম্যান মোক্তার আহমদ, পারভেজ মিয়া ও কয়েস উদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য হাজী রহমান, হাজী নুর মিয়া, হাজী সৈয়দ রৌশন আলী, রোটারিয়ান নুরুল ইসলাম রুপন, সিরাজ আলী, লায়লু মিয়া, শ্রমিক চেয়ারম্যান বারক মিয়া, সেক্রেটারি ফরিদ মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সহ-সম্পাদক শাহান মিয়া প্রমুখ।
Related News
মীমাংসিত বিষয় নিয়ে সিলেট বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের কর্মবিরতির হুমকি অযৌক্তিক: সিলেট এস এম এস নেতৃবৃন্দ
মীমাংসিত বিষয় নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর সিলেট বিভাগ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভায়Read More
সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে বিয়ানীবাজার উপজেলা কমিটির মতবিনিময় গোলাপগঞ্জ থানার মত বিয়ানীবাজার থানায়ও প্রবাসী হেল্প ডেক্স চালু করা হোক, গণদাবি পরিষদ
সিলেট বিভাগ গণনা দাবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক এম শফিকুর রহমান বলেছেন, গোলাপগঞ্জ থানারRead More

