Main Menu

ঘূর্ণিঝড় বা ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জিও ব্যাগ এবং ব্লক প্রস্তুত রাখতে পাউবোকে নির্দেশ পানি সম্পদ উপদেষ্টার

পানি সম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আগামী বর্ষা মৌসুমে দেশের যে সমস্ত জায়গায় ঘূর্ণিঝড় বা বেশি বন্যায় ভাঙনের সম্ভাবনা রয়েছে সেসব স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিসগুলোকে পর্যাপ্ত পরিমাণ জিও ব্যাগ এবং ব্লক প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, সদিচ্ছা থাকলে সমন্বয় করে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করা যায় এটাই একটা বড় সংস্কার। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান কাজে কোথাও গুণগত মানের ঘাটতি দেখা হলে মন্ত্রণালয় গঠিত মনিটরিং কমিটির আহ্বায়কসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

উপদেষ্টা আজ শনিবার ঢাকার গ্রিন রোডে পানি ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পানি দিবস-২০২৫ উপলক্ষে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘পানি খাতে সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জরুরি অবস্থায় রেসপন্স করার জন্য কি কি ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে তার তালিকা এপ্রিল মাসের মধ্যে জমা দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, শিল্পে পানি ব্যবহার নীতিমালাও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা সেটির বাস্তবায়নে যাবো। আলোচনা সভায় পানি নীতি এবং জাতীয় পানি সম্পদ পরিকল্পনা হালনাগাদ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, ঢাকার ৪ টি নদীসহ বাকি ৭ বিভাগ হতে ৭ টি নদী এবং কক্সবাজার জেলার বাঁকখালী নদীসহ মোট বারোটি নদী এবং সেই সঙ্গে রংপুর জেলার শ্যামা সুন্দরী খাল এবং ঘাগট নদী মিলিয়ে মোট ১৪টি নদীর কর্মপরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করে ফেলতে পারব। এর মধ্যে ১০টি নদীর দখল ও দূষণমুক্তকরণে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড, পরিকল্পনা কমিশন এবং জরুরি ফান্ড দিয়ে যতটুকু পারা যায় দ্রুত কাজ করা শুরু হবে। এছাড়া ঢাকার ৪ টি নদী দখল ও দূষণমুক্তকরণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক এবং বিশ্ব ব্যাংক অর্থ দিয়ে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিস্তা বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার ফিজিবিলিটি স্টাডির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়েছে। দুইটা শর্তে এবং সেটা হচ্ছে পাওয়ার চায়না তিস্তা পাড়ের মানুষদের কাছে গিয়ে তাদের পরিকল্পনার কথাটা বলবে। যারা নদী নিয়ে কাজ করে তাদের সঙ্গে কথা বলবে। ইতোমধ্যে তিস্তা পাড়ের ৫ জেলায় গণশুনানি হয়েছে। এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে, ওই বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনার জন্য চীন থেকেও তাদের বিশেষজ্ঞ বা  এক্সপার্ট টিম আসবে। সকলের সম্মতি নিয়েই আসলে কতটুকু উপকার হবে এটা বুঝে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে উপদেষ্টা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। তিস্তা পাড়ের অধিক ভাঙন কবলিত ২০ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে, তিস্তা পাড়ের বেশী ভাঙনপ্রবণ ৪৩ কিলোমিটার এলাকার তীর রক্ষা বাঁধের জন্য ২৪৩ কোটি টাকার অনুমোদন অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গেছে। তবে বছরে তিস্তার বেশি ভাঙনপ্রবণ ২০ কিলোমিটার এলাকার তীর রক্ষা বাঁধের কাজ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে তিস্তার অধিক ভাঙনপ্রবণ বাকী ২৩ কিলোমিটার এলাকার তীর রক্ষা বাঁধের কাজও দ্রুততার সঙ্গে করা হবে।

এ ছাড়া তিনি বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিলে নদীগুলোর স্থানীয় নামসহ বাংলাদেশের নদ-নদীর একটা সম্পূর্ণ তালিকা আমরা প্রকাশ করতে পারব। নদী দখল ও দূষণরোধে প্রত্যেক জেলা হতে একটা করে কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

উপদেষ্টা বলেন, এছাড়া দেশের সবচেয়ে দূষিত লবণদহ, তুরাগ ও হাড়িধোয়া এই ৩ নদী-সহ টাঙ্গাইলের লৌহজং নদী, হালদা নদী, তিতাস, কপোতাক্ষ, সালদা, ময়ূর, আড়াইকূড়ি, বেতনা, গড়াই, ঘাগট, বড়াল, সুতাং এবং মগড়া এই নদীগুলোকে দখল ও দূষণমুক্তকরণে প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। ভবদহ এবং বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানে আমরা কাজ শুরু করে দেব। আড়িয়ালবিল ও চলনবিল নিয়েও আমরা কাজ শুরু করেছি।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ করে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক এ কে এম তাহমিদুল ইসলাম। আলোচনা সভায় বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জলাভূমি ও হাওর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আখতারুজ্জামান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প মনিটরিং কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মল্লিক সাঈদ মাহবুব, ইন্সটিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং এর নির্বাহী পরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমান, ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান, এএলআরডি এর নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শামসুল হুদা, সাংবাদিক ও রিভারাইন পিপলের সদস্যসচিব শেখ রোকন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করেন পানি বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সাব্বির মোস্তফা খান, নদী গবেষক এবং রিভারাইন পিপলের পরিচালক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ।

এছাড়া সভায়  পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *