Fri. Oct 30th, 2020

Onesylhet24.com

Online News Paper

সাইফুর অর্জুন ও রবিউলের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর, রাজন ও আইনুল র‌্যাবের খাঁচায়

দেশে বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউলের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট ২য় আদালতের বিজ্ঞবিচারক সাইফুর রহমান তাদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায় সাইফুর ও অর্জুন নিজেকে নির্দোষ দাবী করে সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোমবার সকাল ১১টা থেকে আদালত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোষাকধারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল ব্যাপক। কঠোর পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে সাইফুর রহমান ও অর্জুনকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে নিয়ে আসা হয় রবিউলকে।
ওইদিন আদালতে গ্রেফতারকৃত সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্করকে হাজির করে ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানী শেষে আদালতের বিচারক ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, ধর্ষণ মামলায় সাইফুর ও অর্জুন লস্করের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এদিকে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নববধূ ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অপর আসামি রবিউল ইসলামকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় একই আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তাদের এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেফতারকৃত সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্করকে হাজির করে ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আদালতে ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্র জানায়, তিন আসামিকেই আদালতে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিলো। আদালত তাদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে জামিন শুনানিতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবি অংশ নেননি বলে জানান এপিপি এডভোকেট খোকন কুমার দত্ত।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যায় তাদের কলেজ থেকে ছাত্রাবাসে ধরে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের ৬-৭ জন নেতাকর্মী। এরপর দুইজনকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে স্বামীকে আটকে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে তারা। খবর পেয়ে রাতে ছাত্রাবাস থেকে ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ধর্ষণের শিকার হওয়া নারীকে ওসমানী হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় গত শনিবার সকালে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদি হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলা ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এজহার ভূক্ত ৬ আসামির মধ্যে তারেক ও মাহফুজকে এখনও আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তিন সহযোগীর নাম জানালো সাইফুর ও অর্জুন

সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামীসহ দুই আসামীর রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে রিমান্ড শুনানীকালে আসামী সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করের পক্ষে কোন আইনজীবী উকালত নামা আদালতে দাখিল করেননি।
শুনানীকালে আদালতের বিচারক সাইফুর ও অর্জুনের পক্ষে কোন আইনজীবী না পেয়ে তাদের বক্তব্য জানতে চাইলে তারা দুজন আদালতকে জানায়, ছাত্রাবাসের ঘটনার সাথে আমরা জড়িত নই। আমরা কোন অপরাধ করিনি। এই ঘটনা ঘটিয়েছে রাজন, তারেক ও আইনউদ্দিন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সোমবার বেলা ১১টা থেকে আদালত এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশি পাহারার প্রিজন ভ্যানে করে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সাইফুর ও অর্জুনকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে আদালত এই আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি অ্যাডভোকেট খোকন কুমার দত্ত জানান, আদালতে রিমান্ড শুনানীকালে আসামীদের পক্ষে কোন আইনজীবী উকালত নামা দাখিল করেননি। তবে বাদী পক্ষের হয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী শুনানীকালে উপস্থিত ছিলেন। আদালত তাদের বক্তব্য শুনতে চাইলে তারা আদালতকে জানায় ছাত্রাবাসের ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারা অপরাধ করেনি। ঘটনা ঘটিয়েছে রাজন, আইনউদ্দিন ও তারেক। তাদের বক্তব্য শুনার পর পরই আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বাদী পক্ষের হয়ে শুনানীতে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলম শোয়েব বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ২জন আসামীর বিরুদ্ধে। এসময় আদালতের এজলাসে উপস্থিত আইনজীবী কয়েকজন পুলিশের রিমান্ড আবেদনের সাথে একমত পোষণ করে আদালতে যুক্তি দেখান। পরে আদালত তাদের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সিলেট আদালতের আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, ‘এটি একটি জঘন্যতম কর্মকাণ্ড যা সমাজের মানুষকে নাড়া দিয়েছে এবং সমাজের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। আর তাই ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকেই কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে দাঁড়াননি এবং তাদের জামিনে কেউ আবেদন করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এটিএম ফয়েজ বলেন, আইনজীবীদের এ সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। ঘৃণা প্রকাশের জন্যেই স্বপ্রণোদিত হয়েই কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে যাননি।
এখন পর্যন্ত সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু আইনি সুবিধা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, তাই আইনজীবী সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষে না থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
তবে, সমিতি চাইলে কেবলমাত্র বাদীপক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী থাকতে পারেন না। এক্ষেত্রে আসামিপক্ষ অন্য জেলার আইনজীবী আনতে পারেন। তবে, সেখানেও আইনজীবী সমিতির আনুষ্ঠানিক অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে।

রাজন ও আইনুদ্দিন র‌্যাবের খাঁচায়

সিলেট এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনায় রাজন মিয়া ও মো. আইনুদ্দিনকে রোববার মধ্যরাতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তবে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাবের কোন সূত্র গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। সোমবার দুপুরে এই দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেছে র‌্যাব।
সোমকার দুপুরে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রেরিত এক বার্তায় রাজন মিয়া ও আইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ধর্ষণের ঘটনায় শনিবার নির্যাতিতার স্বামী নগরের শাহপরান থানায় যে মামলা করেন তাতে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৯ জনকে আসামি করা হয়। যাদের নাম উল্লেখ করা হয় তাদের মধ্যে রাজন ও আইনুদ্দিনের নাম ছিলো না। তবে ধর্ষণের পর থেকেই আলোচিত হতে থাকে এ দুজনের নাম। সোমবার মামলার প্রথান আসামি সাইফুর রহমান আদালতেও এই দুজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন।
রাজন ও আইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে রোববার মধ্যরাতে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল রোববার মধ্যরাতে ফেঞ্জুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে রাজনকে গ্রেপ্তার করে। এসময় স্থানীয় ইউপি সদস্যও উপস্থিত ছিলেন।