Sat. Sep 26th, 2020

Onesylhet24.com

Online News Paper

জাতি মেধাবী নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছে : সেনা প্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, এসবিপি, বিএসপি, বিজিবিএম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি, জি বলেছেন, জীবনে উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করে তা অর্জনে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। জাতি মেধাবী নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করে আছে। লক্ষ্য নির্ধারণ ও পরিশ্রম থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সিলেট ক্যাডেট কলেজের ওল্ড ক্যাডেট এসোসিয়েশন, সিলেট-এর অষ্টম পুনর্মিলনী ও সিলেট ক্যাডেট কলেজের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে ক্যাডেটদের মানুষ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি চর্চা, নৈতিকতা ধরে রাখা এবং দেশপ্রেমের স্পৃহা জাগিয়ে তুলতে হবে। বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ত্রিশ লক্ষ শহীদদের স্মরণ করেন।
দ্বিতীয় দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিল সেনা প্রধানের আগমন। বেলা সাড়ে ১১টায় সেনা প্রধান বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেট, আমন্ত্রিত অতিথি, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষকসহ সকলের সাথে মিলিত হন। এসময় তিনি বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের দৃষ্টিনন্দন কুচ্কাওয়াজ পরিদর্শন করেন। কলেজের ইকবাল-রেজা ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই কুচ্কাওয়াজ উপস্থিত উচ্চ পদস্থ বিভিন্ন দর্শকশ্রোতাদের মোহিত করে। পরে সেনা প্রধান উপস্থিত দর্শকশ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের পরে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্যাডেটদের পরিবেশিত মনোজ্ঞ ডিসপ্লে এছাড়া, ভাষা আন্দোলন, আবহমান গ্রাম বাংলা, গ্রামীণ জীবন, কৃষক-জেলে, কামার তাঁতিসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের চিত্র ও জীবনগাঁথা এই ডিপ্লেতে মূর্ত হয়ে উঠে। এরপর ক্যাম্পাসে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিবেশিত হয় চমৎকার নৃত্য। প্রায় ১৫০০ দর্শকশ্রোতার উপস্থিতিতে চলমান এই অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটে মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে।
উল্লেখ্য, পুনর্মিলনীর আসর শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। বহু আকাক্সিক্ষত এই মাহেন্দ্রক্ষণের বেশ আগে থেকেই প্রাক্তন ক্যাডেটদের আগমন শুরু হয়ে যায় কলেজের সবুজ প্রাঙ্গণে। দিনের গল্প, হৈচৈ খেলাধুলাসহ নানা আনন্দ আয়োজনের রেশ না কাটতেই সন্ধ্যা এসে ভিড় করে পুরোনো গল্পের ঝুলি নিয়ে। প্রাক্তন ক্যাডেটদের আবেগময় স্মৃতিচারণে সবাই যেন মধুময় পুরোনো শৈশব-কৈশোরকে আবার ফিরে পান। এরই মধ্যে নৈশভোজ শেষ করে বাস্কেটবল গ্রাউন্ডে আবার সবাই দ্রুত মিলিত হতে থাকে মিউজিক্যাল কনসার্টের আনন্দে নতুন করে মেতে উঠার অভিপ্রায়ে। প্রতি চার বছর পরপর পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সংবেদনশীলতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি হয় এই পুনর্মিলনীতে। তিনদিনব্যাপী চলা বর্ণিল এ মিলনমেলার সমাপ্তি হবে আজ শনিবার।