Main Menu

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে সিলেটে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ

‎নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলমান বোরো ২০২৫–২৬ মৌসুমের প্রায়োগিক পরীক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩০ জন কৃষকের মধ্যে ৩০ একর জমি চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হয়।
‎মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের পাইকরাজ প্রযুক্তিগ্রামে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল ইউরিয়া, এমওপি, ডিএপি, জিপসাম, জিংক সালফেট, কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং সাইনবোর্ড।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল, সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, সিলেট এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. রেজওয়ান ভুঁইয়া এবং সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, সিলেট এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোসা: আবিদা সুলতানা। আরও উপিস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি উপসহকারী মো. ফজলে মঞ্জুর ভূঁইয়া।

‎প্রকল্প পরিচালক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি লাভবান হবেন। তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশেষ পরিবেশ ও কৃষি পরিস্থিতি বিবেচনায় উপযোগী ধান জাত নির্বাচন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, অঞ্চলভেদে মাটির প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায়—মাটি লবণাক্ত না অম্লীয়—এই বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করে জাত নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক মাটির জন্য সঠিক জাত নির্বাচন করলে ফলন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি উৎপাদন ব্যয়ও কমবে। এছাড়াও তিনি ভ্যারাইটাল ডিসপ্লের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকরা মাঠ পর্যায়েই বিভিন্ন জাতের তুলনামূলক ফলন ও কার্যকারিতা সহজে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে কোন জাত কোন ধরনের মাটিতে অধিক ফলন প্রদান করে—সে বিষয়ে কৃষকদের স্পষ্ট ধারণা সৃষ্টি হবে এবং তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপযুক্ত জাত নির্বাচন করতে সক্ষম হবেন।
‎ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, সিলেট এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. রেজওয়ান ভুঁইয়া বলেন, উন্নত বীজ, সঠিক সময়োপযোগী চাষাবাদ ও সার ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে ধানের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। তিনি রোগ-বালাই ও পোকামাকড় দমনে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের সমস্যা দ্রুত স্যাটেলাইট স্টেশনে অবহিত করার আহ্বান জানান।
‎অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা এ ধরনের সময়োপযোগী এবং  কার্যকর উদ্যোগে সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা ভবিষ্যতেও কৃষকদের সার্বিক উন্নয়ন ও সহায়তায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *