Main Menu

২০১৬ সালের নির্বাচনসহ নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিলেন হাজী সাজ্জাদ মিয়া

‎সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সমাজসেবক আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মো. সাজ্জাদ মিয়া ব্যক্তিগত কারণ ও অতীত রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন।
‎গত ২৬ অক্টোবর ২০২২ তারিখে সিলেট লন্ডন ২৪–এর লাইভ সাক্ষাৎকারে তিনি এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

‎২০১৬ সালের উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচন:

‎২০১৬ সালের ২২ মার্চ কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাজী সাজ্জাদ মিয়া চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার নির্বাচনী প্রতীক ছিল সিএনজি।
‎নির্বাচনের দিন ৯ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি কেন্দ্রে তার এগিয়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময় ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের লক্ষ্যে । নিকটতম প্রতিদ্বন্দীর নির্দেশে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

‎পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সুজাতপুর, বাছিরপুর, মাসুকবাজার, পূর্ব দশাগ, বাদালি, অনন্তপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড তৈরি করেন, যাতে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেওয়া না যায়। ঘটনাটি দ্রুতই পুরো ইউনিয়নে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

‎হামলার পর মামলা ও হয়রানি:

‎ঘটনার পরে নিকটতম প্রার্থীর ইন্ধনে পুলিশ সাজ্জাদ মিয়ার সমর্থক বহু মানুষকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎মামলায় বিএনপির অর্থ সম্পাদক আকরাম আলী মাসুক, পূর্ব দর্শা গ্রামের যুবদল নেতা আখল মিয়া ও তারেক আহমদ, বাদায়ালী গ্রামের রহমত আলী, জামায়াতে ইসলামীর নেতা অনন্তপুর গ্রামের জসীম উদ্দীন ও একই গ্রামের জামায়াত নেতা মখলিসুর রহমান ইমরানসহ দুই শতাধিক মুরব্বি ও সাধারণ মানুষকে আসামি করা হয়।

‎এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মাঠে নামার কারণে দলীয় সিদ্ধান্তে হাজী সাজ্জাদ মিয়াকে দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়।

‎দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত:

‎বহিষ্কার, রাজনৈতিক জটিলতা, মামলা–হামলা এবং সমর্থকদের ওপর হয়রানিমূলক চাপ—সবকিছু মিলিয়ে হাজী সাজ্জাদ মিয়ার মনে রাজনীতির প্রতি তীব্র অনীহা জন্মায়।
‎পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেন এবং জানান যে তিনি স্বেচ্ছায় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

‎সাম্প্রতিক ঘোষণা:

‎সর্বশেষ ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর লাইভ সাক্ষাৎকারে হাজী সাজ্জাদ মিয়া বলেন- “আমি মানুষের কল্যাণে নিজের মতো করে কাজ করতে চাই। অন্য কোনো রাজনৈতিক দলে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। রাজনৈতিক জীবনে যদি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি, আমি ক্ষমা চাইছি।”

‎তার এই ঘোষণায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হলেও তিনি জানান- সামাজিক ও মানবিক কাজ চালিয়ে যাবেন আগের মতোই।







Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *