Tue. May 26th, 2020

Onesylhet24.com

Online News Paper

করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ বহনের গুজবে ট্রলারে হামলায় আহত ৫

অনলাইন ডেস্কঃ  কভিড-১৯ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির লাশ আছে মসজিদের মাইকে এমন গুজব ছড়িয়ে একটি ট্রলারে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে বরিশালের গৌরনদীতে। নৌ-পথে ট্রলারযোগে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন ৫টি পরিবারের সদস্যরা।

অতিউৎসাহী মানুষের দফায় দফায় ছোঁড়া ইটের আঘাতে ট্রলারের ৫ জন যাত্রী আহত হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানাযায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সড়ক ও নৌ-পথে সারাদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জ শহরে দিনমজুরের কাজ করা ৫টি পরিবারের সদস্যরা বিপদগ্রস্থ হয়ে ট্রলারে নিজ বাড়ি বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলারটি গৌরনদীর টরকী বন্দর সংলগ্ন এলাকা অতিক্রমকালে ট্রলারের জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় নতুন টরকীর চরে (কালকিনি উপজেলার রমজানপুর) ট্রলারটি থামানোর পর পরই নদীপাড়ের বাসিন্দারা কিছু জিজ্ঞাসা না করেই স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেয় ট্রলারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতবরণ করা ব্যক্তির লাশ আছে। এদের প্রতিহত করুন।

এ ঘোষণার পর অর্তকিতভাবে দফায় দফায় ট্রলারটি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে অতিউৎসাহী গ্রামবাসী। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে ৫ জন আহত হয়। ট্রলারে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুদের আত্মচিৎকারে নদীর অপরপ্রান্তে (টরকী বন্দর এলাকা) অবস্থান করা থানা পুলিশের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

হামলাকারী নদীপাড়ের মানুষের দাবি, ট্রলারে শোয়ানো অবস্থায় রাখা একটি আলমিরা দেখে তাদের মধ্যে কেউ ভেবেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেছে। সেই লাশ নিয়ে ট্রলারযোগে কেউ সেখানে এসেছেন। এই সন্দেহে তাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করেন তারা।

গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে নিরাপদে ওইসব পরিবারগুলোর সদস্যদের বানারীপাড়া ও স্বরূপকাঠীর উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে কাউকেই গ্রামের বাড়িতে যাওয়া উচিত নয়। একইসাথে কিছু না জেনে বা বুঝে মসজিদের মাইকে এমন গুজব ছড়িয়ে হামলা চালানোও সঠিক হয়নি বলে গ্রামবাসীকে বুঝিয়ে বলেন তিনি।