Sat. Mar 28th, 2020

Onesylhet24.com

Online News Paper

সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনঃ আবু সরকারের জুলুম অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ চান ট্রাক শ্রমিকেরা

সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ট্রাক শ্রমিক নেতা মো. আনোয়ার পাঠান। রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে আনোয়ার পাঠান বলেন, আবু সরকার সিলেটের পরিবহন শ্রমিকদের জীবন জীবিকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যাচ্ছেন। আবু সরকার ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পরদিন থেকে তিনি স্বরূপে আবির্ভূত হন। ওই দিন থেকে তিনি সিলেট-জাফলং সড়কের সারিঘাট বৈঠাখাল নামক স্থান থেকে অভারলোডের অভিযোগ তুলে ট্রাক থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেন। এ ভাবে দীর্ঘ ৮ মাসে ট্রাক থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা আদায় করেন আবু সরকার। এখানে প্রতিদিন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩৫০ গাড়ী আশা যাওয়া করে। আবু সরকারের নেতৃত্বে সিলেট ভোলাগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সড়কের সালুটিকর থেকে ওভারলোডের নামে ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা ও ভোলাগঞ্জ বউ বাজার নামক স্থান থেকে ট্রাক প্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। এভাবে উপরোক্ত দুটি স্থান থেকে প্রতি মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ভোলাগঞ্জ রোডে বহিরাগত গাড়ী উল্লেখ করে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান থেকে ওভারলোডের নামে গাড়ি প্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। প্রতিদিন এ রোডে গাড়ি ঢুকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩৫০টি।
আনোয়ার পাঠান বলেন, আবু সরকারের নেতৃত্বে গরু বহনকারী প্রতি ট্রাক থেকে ৫শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। সম্প্রতি সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন সহ নামস্বর্বস্ব ১২টি সংগঠনের নাম যুক্ত করে কর্মবিরতির নামে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেন। এ অবস্থায় গভীর রাতে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ড্রিস্ট্রিক্ট ট্রাকগুলোতে আবু সরকারের ইশারায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের অনুমতি না নিয়ে নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য অবৈধভাবে ৭২ ঘন্টার কর্মবিরতি আহ্বান করেন আবু সরকার। যা পরবর্তীতে ধর্মঘটে রূপ নেয় আবু সরকারের চাঁদাবাজি স্বেচ্ছাচারিতা আর কথায় কথায় অবরোধ এবং ধর্মঘটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অনেকেই তার রোষানলে পড়েছেন। শ্রমিকদের স্বার্থে কথা বলে আবু সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন নিরীহ পরিবহণ শ্রমিক ও নেতারা। সিলেটের ট্রাক শ্রমিক ও মালিকদের একটি প্রাণের দাবি ছিলো একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা। অবশেষে ট্রাক টার্মিনালটি দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে নির্মিত হয়। টার্মিনাল নির্মাণের পর বিনা ইজারায় ৬ মাস ট্রাক টার্মিনালটি ব্যবহার করেন উক্ত আবু সরকার। পরবর্তীতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালটির ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। ইজারা গ্রহণের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নের নাম ব্যবহার না করে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে ইজারা গ্রহণের জন্য আবেদন করেন আবু সরকার। কিন্তু ট্রাক টার্মিনাল ইজারা নিতে ব্যর্থ হন তিনি। উপযুক্ত মূল্যে ইজারা লাভ করেন সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইজারা গ্রহণ করে আবু সরকারের কারনে বিপাকে পড়েন সিলেট জেলা ট্রান্সপোর্ট মালিক গ্রুপ কর্তৃপক্ষ। কারণ আবু সরকারের ইশারায় ট্রাক টার্মিনালে ট্রাক প্রবেশ না করে নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কের পাশে ট্রাক পার্কিং করা হচ্ছে। এতে একদিকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনসাধারণ অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ইজারাদাররা। আবু সরকার কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল ইজারা না পেয়ে ভোলাগঞ্জে একটি মিনি ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল গফুর, হাজী জমির উদ্দিন, মনির মিয়া, পাখি মিয়া, হান্নান মিয়া, আব্দুল করিম, মো. ছমির মিয়া, মো. সানোয়ার, মো. মহব্বত মোল্লা, মো. জানু মিয়া, মো. কালা মিয়া, মো. আলতাফ মিয়া, মো. মামুন মিয়া, মো. আজাদ মিয়া, মো. হাবিব মিয়া প্রমুখ।